প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

ত্রিপাণি বিদ্যাপীঠ,মুন্সিগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ০৭ নং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যে ০৩নং ওয়ার্ডের জেলেখালি গ্রামে অবস্থিত।অত্র ত্রিপাণি বিদ্যাপীঠ,মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি যে স্থানে স্থাপিত হয় উক্ত স্থানে মথুরাপুর সিন্ধু বালা প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান ছিল উহার পূর্ব পার্শ্বে একটি নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল। সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত নহে। উক্ত প্রতিষ্ঠানে ০৩ জন কর্মরত শিক্ষক ১) বাবু গৌরপদ মন্ডল ২) বাবু ধনঞ্জয় কুমার মিস্ত্রী ৩) বাবু অম্বিকা চরন মন্ডল । একদিন চেয়ারম্যান বাবু কালীপদ গাইন মহাশয় অত্র এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। দূরবত্তী স্থানে ছাড়া নিকটবত্তী স্থানে কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নাই। বাবু পতিরাম গায়েন ও বাবু সুশীল কুমার মন্ডল ০২ জন শিক্ষক পূর্বে সুন্দরবন মা/বিদ্যালয়ে চাকুরী করতেন। বর্তমানে বনশ্রী মা/বিদ্যালয়ে হরিনগর এ চাকুরী করেন। তাদের দুই জনের ডেকে এনে অত্র স্থানে এক বড় আকারের মিটিং করা হয়। তাহারা দুই জন উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয় মেম্বর মোঃ মাদার কাগুজী ,মোঃ আক্কাস আলী চৌকিদার ,বাবু রাধাকান্ত মন্ডল ,উত্তর কদমতলা বাবু সুরেন্দ্র নাম মন্ডল প্রমুখ ব্যক্তির সম্বন্বয়ে এক বিশাল মিটিং করা হয়। সিদ্ধান্ত হয় অত্র স্থানে বাবু কালী পদ গাইন মহাশয়ের জায়গায় একটি বিদ্যালয় স্থাপন করা হইবে। ইতমধ্যে একটি গোলপাতার ছাউনিযুক্ত গৃহ নিম্নান করা হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হবেন বাবু কালীপদ গাইন। প্রধান শিক্ষক সেক্রেটারী ,ও অন্যান্য সদস্য স্থানীয় ব্যক্তির মধ্যে নিযুক্ত করা হয় । শিক্ষকগন ঃ১) বাবু পতিরাম গায়েন,সদস্য সচিব,২)বাবু সুশীল কুমার মন্ডল ,সহকারি প্র/শিক্ষক,৩) বাবু গৌব পদ মন্ডল ,৪) বাবু ধনঞ্জয় কুমার মিস্ত্রী,৫)বাবু অম্বিকা চরন মন্ডল, ৬)জনাব মৌলবী আনোয়ার হোসেন। স্থানীয় জনগন এলাকায় ধান্য ,টাকা আদায় করেন।
নামকরনঃ এরপর নামকরনের মিটিং ডাকা হয়। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাবু কালিপদ গায়েন মহাশয় প্রস্তাব করেন যে, কোন ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠানের নাম করন করা হইবে না। নাম হবে সার্ব্বজনীন । পরিবারের কোন নামে হবে না। সহকারী প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার মন্ডল পারিপাশ্বিক বিবরণ জানিয়ে অবশেষে প্রতিষ্ঠানের নাম করেন ত্রিপাণি বিদ্যাপীঠ,মুন্সিগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তিনি উক্ত নামকরনের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনটি এলাকার জনগণ,০৩ তিনটি গ্রামের সম্বন্বয়ে নদীর মিলনস্থল ত্রিমোহনী এই হিসাবে ত্রিপাণি বিদ্যাপীঠ,মুন্সিগঞ্জ নাম করন করা হয়।
অতঃপর প্রধান শিক্ষক পতিরাম গায়েন মহাশয় প্রস্তাব করেন যে, বিদ্যালয় স্থাপন করতে বা সরকারি অনুমোদন প্রাপ্তির জন্য ২.০০ (দুই একর) জমি প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিষ্ট্রি করিয়া দিতে হবে। ইং ১৯৭০সালের ২৫/০১/১৯৭০ তারিখে বাবু কালিপদ গাইন ও বাবু ফনীন্দ্র নাথ গাইন দুই জন ভ্রাতা একত্রে ১.৯৬ একর জমি বিদ্যালয়ের নামে রেজিষ্ট্রি করিয়া দেন।বিদ্যালয়ের সরকারী অনুমোদন প্রাপ্তির জন্য প্রধান শিক্ষক মহোদয় আবেদন প্রস্তুত করেন। বরিশাল উপপরিচালক অফিসে আবেদন করেন,ইত মধ্যে সাতক্ষীরা সোনালী ব্যাংকে ৭৫০/=টাকা দিয়ে রিজাভ ফান্ড,১০০০/= টাকা জেনারেল ফান্ড ওআরও ৬টি সাব একাউন্ট খোলা হয়। বিদ্যালয়ের ক্যাশ খাতা ও অন্যন্য খাতা পত্র সুন্দরবনের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি নরেন্দ্র নাথ মিস্ত্রীর সহাতায় খাতা পত্র প্রস্তুত করা হয়। ১৯৭২ সালে নতুন করে দেশ গঠিত হয়।বিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রাপ্তির জন্য আবেদন ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন মহাকুমা শিক্ষা অফিসার জনাব মেহেদী হাসান সাহেব। পরিদর্শন কারি ভাল ভাবে প্রতিবেদন দিলে ইং০১/০১/১৯৬৮ তারিখ হইতে ০৩ বৎসরের জন্য নিম্ম মাধ্যমিক অনুমোদন এবং ইং১৯৭২ সাল হইতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য ররিশাল ডি,ডি,পি,আই অফিসে আবেদন করলে বিদ্যালয়টি ০১/০১/১৯৭২ হইতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুমোদন দেন।